কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মিনার মিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী চার রাস্তার মোড়ে গ্রামের একাংশের নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেনু মিয়ার পরিবার ও তাঁদের সমর্থকদের করা সংবাদ সম্মেলনে মিনার মিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ব্ল্যাকমেইলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মানববন্ধনে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহ্ আলম সরকার, স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. রাসেল মিয়া, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দিলীপ কর্মকার, মহিলা দল নেত্রী ফরিদা বেগম এবং স্থানীয় বাসিন্দা নাজমা, সাহেনা, রেশমা, স্বপ্না ও খাইরুন্নাহার বক্তব্য দেন।
বক্তারা স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রেনু মিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রেনু মিয়া বা তাঁর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মো. কাইয়ুম মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রুবেল মিয়া ও ছাত্রদল কর্মী মো. সাকিবসহ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর কুলিয়ারচর থানার একটি মামলায় রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া পরানো অবস্থায় তিনি স্থানীয় লোকজনের ভিড়ের সুযোগে পালিয়ে যান। পরে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
পরে রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া, পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয় এবং চার নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর তথ্যও আগের প্রতিবেদনে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রেনু মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর করা সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মিনার মিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি সিঙ্গাপুরপ্রবাসীর পরিবারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়।
তাঁদের দাবি, ওই অভিযোগের সঙ্গে মিনার মিয়া বা তাঁর সহযোগীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করবে কি না, সেটি পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়। এ ঘটনায় তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে অপপ্রচার বন্ধ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে সংবাদ সম্মেলনে মিনার মিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন