
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশবাসী ও বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসুল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনকে মানবজাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে তিনি আবির্ভূত হন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মহানবী (সা.)-এর ওপর মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। তাঁর মাধ্যমে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার আদর্শে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ তাঁকে ‘সমগ্র জগতের জন্য রহমত’ হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়েও তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বিদায় হজের ভাষণের মাধ্যমে মহানবী (সা.) মানবিক মর্যাদা, অধিকার, সাম্য, ন্যায় ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা সর্বজনীন এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়।
বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.)-এর আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা আজ আরও বেশি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আসুন, আমরা তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করি এবং শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।”
বাণীর শেষে রাষ্ট্রপতি মহান আল্লাহর কাছে সবাইকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের তাওফিক কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের ওপর আল্লাহর রহমত, বরকত, শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হওয়ার প্রার্থনা জানান।
মন্তব্য করুন