জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারের পর্যটনের আড়ালে অন্ধকার বাণিজ্য

কক্সবাজারের সমুদ্রের ঢেউ কোনোদিন মিথ্যা বলে না। দিনের আলোয় এই শহর যতটা সুন্দর, রাতের অন্ধকারে তার কিছু চিত্র ততটাই বিব্রতকর। পর্যটনের নামে যদি এমন একটি সংস্কৃতি ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়, যেখানে মাদক, অনিয়ন্ত্রিত রাতের বিনোদন, অশালীনতার অভিযোগ, সহিংসতা এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে সেটিকে শুধু ব্যবসা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তখন বিষয়টি সামাজিক সংকট, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং জননিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

কক্সবাজারের মানুষ পর্যটনের বিরুদ্ধে নয়। বরং পর্যটন এই শহরের অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু পর্যটনের নামে এমন কোনো পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া যায় না, যা শহরের স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কিংবা তরুণদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

সম্প্রতি হোটেল দ্য রয়েল রিডকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ও অভিযোগ রয়েছে। সেখানে নৃত্য ও গানের আয়োজন এবং রাতের বিনোদনকেন্দ্রিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগও উপেক্ষা করা যায় না। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, পরিচালনাবিধি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আইন মেনে পরিচালনা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।

কারণ, আইনের আওতায় বৈধ বিনোদন আর আইনবহির্ভূত কার্যক্রম এক বিষয় নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে বৈধ কার্যক্রম চললে সেটিকে অযথা হয়রানি করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আবার কোনো ধরনের অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

কক্সবাজারের রাতের বিনোদনকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রয়েছে। ২৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকায় রেনেসাঁ হোটেলের একটি বারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের পাশাপাশি হোটেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়েও পর্যালোচনার কথা জানিয়েছিল।

এই ঘটনা কোনো একটি হোটেল বা বারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার বিষয় নয়। বরং এর মধ্য দিয়ে প্রশ্ন ওঠে—একটি পর্যটন শহরের রাতের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি কতটা কার্যকরভাবে তদারক করা হচ্ছে?

মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রযোজ্য।

বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যমান আইন রয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কার্যকর হয়েছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচার ও আইন প্রয়োগের কাঠামোয়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তারপরও যদি কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হয়, তাহলে শুধু রাস্তার পর্যায়ের বিক্রেতা বা বহনকারীদের গ্রেপ্তার করেই দায়িত্ব শেষ করা যথেষ্ট নয়। মাদক সরবরাহের উৎস, পরিবহন, অর্থের লেনদেন এবং এর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক—আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

আরো পড়ুন...  জিরো টলারেন্সের পরও মাদক কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে?

কারা মাদক আনে, কারা সরবরাহ করে, কোথায় এর বাজার তৈরি হয় এবং কীভাবে তরুণদের কাছে এটি পৌঁছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ একজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করা তাৎক্ষণিক সাফল্য হতে পারে, কিন্তু মাদকের সরবরাহব্যবস্থা অক্ষত থাকলে সমস্যার মূল জায়গাটি থেকে যায়।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর মামলা করা নয়; অপরাধের পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা। তরুণদের হাতে মাদক পৌঁছানোর পর অভিযান চালানো প্রয়োজন, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো মাদক যেন তাদের কাছে পৌঁছাতেই না পারে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

কক্সবাজারের তরুণ সমাজকে নিয়ে বিশেষভাবে ভাবার সময় এসেছে। একজন তরুণ মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি পরিবার নয়; ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি সম্ভাবনা। একজন শিক্ষার্থী নেশার কারণে শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে পড়লে তার সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্নও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর একজন যুবক অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়ে পুরো সমাজে।

এখানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হোটেল-ব্যবসায়ী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং সামাজিক নেতৃত্ব—সবার দায়িত্ব রয়েছে। কোনো একটি পক্ষের ওপর পুরো দায় চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান আইনের দৃষ্টিতে সমতার নিশ্চয়তাও দিয়েছে।

তাই রাষ্ট্রের আইন, জনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের কাঠামোর মধ্যেই রাতের বিনোদনকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় মূল্যবোধ ব্যক্তির বিশ্বাসের বিষয় হলেও মাদক, সহিংসতা, অপরাধ ও জননিরাপত্তার প্রশ্নগুলো সরাসরি রাষ্ট্রীয় আইন ও প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আমরা এমন কোনো বাংলাদেশ চাই না, যেখানে পর্যটনের অর্থ দাঁড়াবে রাত জেগে মাদক ও অনিয়ন্ত্রিত বিনোদনের বাজার তৈরি করা। আমরা এমন কক্সবাজারও চাই না, যেখানে সমুদ্রের সৌন্দর্যের পাশাপাশি তরুণদের জন্য নেশার ঝুঁকিও বাড়তে থাকবে।

পর্যটনের অর্থ শুধু হোটেলের আয়, রেস্তোরাঁর ব্যবসা কিংবা পর্যটকের সংখ্যা নয়। এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা, পরিবেশ, সামাজিক স্থিতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থও জড়িত। উন্নয়নের হিসাব করতে হলে অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি সামাজিক ক্ষতির দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

হোটেল দ্য রয়েল রিড হোক কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান—আইনের বাইরে কারও অবস্থান থাকা উচিত নয়। বৈধ কার্যক্রম হলে প্রশাসন তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারে। কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেও সেই ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা থাকলে গুজব ও জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিও কমে।

আরো পড়ুন...  স্বাধীনতা নাকি অনুমতির শৃঙ্খল

কক্সবাজারের রাতকে অনিয়মের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। পর্যটন এলাকার রাতের বিনোদনকেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স, অনুমোদন, নির্ধারিত সময়সীমা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও কার্যক্রম নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় থাকা দরকার।

একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সরবরাহব্যবস্থার মূল স্তরগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি, পাঠাগার, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। শুধু ‘মাদক থেকে দূরে থাকো’ বললেই তরুণ প্রজন্ম মাদকমুক্ত হবে না; তাদের সামনে একটি অর্থবহ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের পথও তৈরি করতে হবে।

একটি শহরের সামাজিক অবক্ষয় একদিনে তৈরি হয় না। ছোট ছোট অনিয়ম যখন দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকে, তখন তা ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় পরিণত হয়। তাই কোনো ঘটনা বড় আকার ধারণ করার আগেই প্রশাসনের সতর্ক হওয়া জরুরি।

আজ কক্সবাজারের প্রয়োজন শুধু আরও আলোঝলমলে পর্যটন নয়; প্রয়োজন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পর্যটনব্যবস্থা। প্রয়োজন মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি। প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোনো হোটেলের নাম, কোনো ব্যবসায়িক প্রভাব বা কোনো অর্থের ক্ষমতা আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।

সমুদ্রের শহরকে মাদকের শহর হতে দেওয়া যাবে না। কক্সবাজারের পর্যটনকে এমন কোনো অন্ধকার বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া উচিত নয়, যা শহরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোনো মাদকচক্র, অপরাধী নেটওয়ার্ক কিংবা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসার কাছে বন্ধক রাখা যায় না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলে তরুণদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

কক্সবাজার শুধু একটি পর্যটন নগরী নয়; এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই শহরটিকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার।

এই দাবি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। এটি একটি শহরের নিরাপদ ভবিষ্যতের দাবি। এটি বিনোদনের বিরুদ্ধেও নয়; বরং আইনবহির্ভূত কার্যক্রম, মাদক, সহিংসতা, সামাজিক নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং দায়িত্বশীলতার ঘাটতির বিরুদ্ধে একটি সামাজিক প্রশ্ন।

কক্সবাজারের সমুদ্র যেমন মানুষের মনকে টানে, তেমনি এই শহরের ভবিষ্যৎও যেন অন্ধকারের দিকে না যায়—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান
কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসলামপুর মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণির ক্লাস উদ্বোধন ও নবীন বরণ

১

কালিয়াকৈরে গভীর রাতে ভয়াবহ আগুন, পুড়ল ২২ কক্ষ ও ৬ দোকান

২

মাগুরার শ্রীপুরে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক

৩

কক্সবাজারের পর্যটনের আড়ালে অন্ধকার বাণিজ্য

৪

শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ্ কলেজে নবীন বরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

৫

কুড়িগ্রামে সেবাদানকারী সংস্থা ও নারীদের সঙ্গে সংলাপ

৬

রায়পুরায় সার ডিলার ও দোকানিকে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা, সার জব্দ

৭

যে আমলে রিজিক বাড়ে, তা কল্পনাও করতে পারবেন না

৮

মাগুরার শ্রীপুরে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান

৯

আওয়ামীলীগের নৈরাজ্য-সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মোংলায় বিক্ষোভ সমাবেশ

১০

মোংলায় ENABLE প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

১১

জাতীয় সংসদের হুইপ দুলুর সঙ্গে ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হাসপাতাল প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

১২

নেশার টাকার জন্য বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগ, ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

১৩

সাংবাদিক হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

১৪

মাগুরায় সারের বেশি দাম ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

১৫

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

১৬

ঝালকাঠিতে বিশেষ অভিযানে ছাত্র-যুব প্রজন্ম লীগ নেতা গ্রেপ্তার

১৭

কুলিয়ারচরে সাংবাদিক-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জামায়াতের মতবিনিময়, প্রার্থী ঘোষণা

১৮

কুড়িগ্রামে ৫৪০ কিশোরী ও নারীর মাঝে ডিগনিটি কিট বিতরণ

১৯

কাঁঠালিয়ায় সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির স্মরণে স্মরণসভা

২০