রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, “আমি আপনাকে সারা জাহানের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।” (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর হাবিব হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমগ্র মানবজাতি তথা সারা আলমের জন্য রহমত ও অনুগ্রহের মাধ্যম হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর আগমন মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত ও ফজল। তাঁর জীবন, আদর্শ, চরিত্র ও শিক্ষা কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বের মানুষের জন্য পথনির্দেশনা হয়ে থাকবে।
হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণ করা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আলেম ও মাশায়েখগণ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পবিত্র জীবন, সিরাত ও গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করে আসছেন।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “আর আপনার প্রতিপালকের নিয়ামতের কথা প্রকাশ করুন।” (সূরা আদ-দুহা: ১১)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, “বলুন, আল্লাহর ফজল ও তাঁর রহমতে—এতেই তারা আনন্দিত হোক।” (সূরা ইউনুস: ৫৮)।
মহান আল্লাহর এই রহমতের অন্যতম প্রকাশ তাঁর প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন। তাঁর মাধ্যমে মানুষ পেয়েছে হেদায়েতের পথ, নৈতিকতার শিক্ষা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ।
ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও চর্চা রয়েছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীরা নবীজির প্রতি ভালোবাসা, তাঁর সিরাত আলোচনা এবং দরুদ-সালামের মাধ্যমে এ উপলক্ষকে স্মরণ করে থাকেন।
এ বিষয়ে বিভিন্ন ইসলামী গ্রন্থে ইসলামের প্রাথমিক যুগের বহু মনীষীর বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), হজরত উমর (রা.), হজরত ওসমান (রা.), হজরত আলী (রা.)সহ বিশিষ্ট সাহাবি ও পরবর্তী যুগের আলেম-আউলিয়াদের নামে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ব্যয়, আয়োজন ও নবীপ্রেমের ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম হাসান বসরি (রহ.), হজরত জুনাইদ বাগদাদি (রহ.), হজরত মারুফ কারখি (রহ.) ও ইমাম ফখরুদ্দীন রাজি (রহ.)-এর নামেও মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের বিভিন্ন বক্তব্য ইসলামী সাহিত্যে উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে এসব বক্তব্য ও বর্ণনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রন্থ, সূত্র ও বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে উদ্ধৃত করা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের যেকোনো ধর্মীয় বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে আমল করাই শ্রেয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসা শুধু একটি নির্দিষ্ট আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ, তাঁর চরিত্র ও আদর্শকে জীবনে ধারণ, বেশি বেশি দরুদ পাঠ এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েও তাঁর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো যায়।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা অন্তরে ধারণ, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট।
সাবেক ইমাম ও খতিব, কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সিলেট।
সাবেক প্রিন্সিপাল, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর, সিলেট।
সাবেক প্রধান শিক্ষক, হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।
মন্তব্য করুন