কালিয়াকৈর-এ পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি। “পরিবেশ সংরক্ষণে করণীয়” শীর্ষক এ আয়োজনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার সকালে কালিয়াকৈর পৌরসভার অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কালিয়াকৈর পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষ যদি অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করে, তাহলে দেশ আরও সবুজ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ পরিবেশ উপহার দিতে হলে এখন থেকেই পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন, পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের উপদেষ্টা ডাঃ ফারুক আহমেদ রিপন, অধ্যাপক খালিদ হোসেন, সাংবাদিক আইয়ুব রানা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন এবং সহ-সভাপতি সানোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, বন সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে ৫ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ভেষজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। চারা পেয়ে কৃষকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নিজেদের এলাকায় আরও বেশি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেন।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন