রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আল মামুন খানের বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাবেক মেয়রের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের অনুসারীরা তাঁকে খুঁজে না পেয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার দিবাগত রাতে। অভিযোগ অনুযায়ী, সশস্ত্র একদল লোক প্রথমে পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত আল মামুন খানের ফিলিং স্টেশনে হামলা চালায়। সেখানে থাকা কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টাকা লুট করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর হামলাকারীরা তাঁর শ্বশুরবাড়ি, ভাড়া বাসা এবং ব্যক্তিগত গোলঘরেও ভাঙচুর চালায়।
আল মামুন খান, যিনি পুঠিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দাবি করেন—এ হামলা ছিল পরিকল্পিত। তাঁর ভাষ্য, “আমি কোনো সহিংস রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে আমাকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এমপিপুত্র ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজনের নির্দেশে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে।
তবে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর বা তাঁর অনুসারীদের এ ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি জানান, একই দিনে রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানার ভদ্রা এলাকায় তাঁর অনুসারী সেলিম সরকারের ওপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গেছে, ওই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বিএনপি নেতা সৈয়দ আলীর ছেলে মো. মারুফ দাবি করেন, পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং সেই বিরোধ থেকেই প্রথমে তাদের বাড়িতে হামলা হয়। পরে সাবেক মেয়রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাঁর ঘনিষ্ঠদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, সাবেক মেয়রের শ্বশুরবাড়িতে হামলার বিষয়ে তারা অবগত আছেন। তবে ফিলিং স্টেশনসহ অন্যান্য স্থানে হামলার বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, সেলিম সরকারের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন