সিলেট-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, খ্যাতিমান আলেম ও শিক্ষানুরাগী অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।
জানা গেছে, গত ১২ জুন শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষা, সমাজসেবা, ইসলামী চিন্তাচর্চা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সিলেট অঞ্চলের ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক শোকবার্তায় হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন একজন দূরদর্শী শিক্ষাবিদ, সফল সংগঠক এবং ইসলামের একনিষ্ঠ খাদেম। তিনি সারা জীবন ইসলামী শিক্ষা বিস্তার, কোরআনের খেদমত এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। তাঁর হাত ধরে সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা আজও জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে সিলেট নগরীর মিরাবাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া, যা পরবর্তীতে অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে একই আদর্শ ও শিক্ষামডেলের ভিত্তিতে নগরীর পাঠানটুলায় প্রতিষ্ঠিত হয় জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, যা বর্তমানে দেশব্যাপী সুপরিচিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
কোরআনের শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে গঠিত সামাজিক সংগঠন ‘আনজুমানে খেদমতে কোরআন’-এর দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পাশাপাশি সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য ও নগর উন্নয়নেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। নগরীর জিন্দাবাজারে প্রতিষ্ঠিত আধুনিক বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স আলহামরা শপিং সিটির প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দুধরচকী বলেন, “মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মতো একজন প্রজ্ঞাবান আলেম, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবককে হারিয়ে জাতি এক মূল্যবান অভিভাবককে হারালো। তাঁর কর্মময় জীবন, সততা, প্রজ্ঞা ও মানবকল্যাণে অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
শোকবার্তার শেষে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর জান্নাতুল ফেরদাউস নসিবের প্রার্থনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।এই প্রতিবেদনটি পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন