কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বেকার ও অদক্ষ যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ঘাসফুল ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘প্রাইজ (PRISE)’ প্রকল্প। কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা না থাকা শুধু ব্যক্তিগত হতাশার কারণ নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। অন্যদিকে শিল্প ও উৎপাদন খাতে দক্ষ জনশক্তির অভাব এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
রোববার (১৪ জুন) নওগাঁ জেলার মান্দা ও পত্নীতলা (নজিপুর) উপজেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ঘাসফুল এবং ব্র্যাকের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘প্রাইজ’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তারা কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণই পারে যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলতে।
সকাল ১১টায় মান্দা উপজেলার সতিহাটে এবং বিকেল ৩টায় পত্নীতলা উপজেলার নজিপুরে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মোট ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং ৫০ জন মাস্টার ক্রাফটসপারসন (এমসিপি)-এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
দুটি অনুষ্ঠানেই সভাপতিত্ব করেন ঘাসফুলের উপ-পরিচালক জয়ন্ত কুমার বসু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রাইজ প্রকল্পের শাখা সমন্বয়কারী মো. মোশারফ হোসেন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রকল্পের সুপারভাইজার খায়রুল ইসলাম, মিমিয়া জামান, আল হাসান মাহমুদ ও শাহীন ছিদ্দিকা।
মান্দার সতিহাটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল। তিনি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা শুধু নিজেদের কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করতে পারবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে নজিপুরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পত্নীতলা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশিষ কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, “বর্তমানে বেকারত্বের ক্রমবর্ধমান হার যুবসমাজের মধ্যে হতাশা ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের অন্যতম কার্যকর উপায় হলো বাস্তবমুখী ও কারিগরি শিক্ষা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই যুবকেরা নিজেদের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আয়বর্ধক কার্যক্রম শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্র্যাক স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির (এসডিপি) জোনাল ম্যানেজার মো. ফরহাদ হোসেন, ঘাসফুলের সহকারী পরিচালক কেএমজি রব্বানী বসুনিয়া, জোনাল ম্যানেজার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রকল্প সমন্বয়কারী সিরাজুল ইসলাম, এরিয়া ম্যানেজার জুয়েল রানা এবং কেএম আহসান হাবিব।
বক্তারা বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। ‘প্রাইজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীরা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠান শেষে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। পাশাপাশি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফল কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান।এই রিপোর্টটি স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে এবং শিরোনামটি সংক্ষিপ্ত, আকর্ষণীয় ও পেশাদার রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন