প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বৃত্তি কোটা পুনর্বহালের দাবিতে জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর দোয়েল চত্বরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ বৃত্তি কোটা নির্ধারণ করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী কিন্ডারগার্টেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে। তাই বিদ্যমান কোটাব্যবস্থা বহাল থাকলে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মিজানুর রহমান সরকার বলেন, “বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।”
তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করে মেধাভিত্তিক ও ন্যায়সঙ্গত বৃত্তি ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক প্রতিনিধিরা বলেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা বাতিল হওয়ায় গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষায় সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলনে সরকারের কাছে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সরকারি ও বেসরকারি সব শিক্ষার্থীর জন্য সাম্যভিত্তিক বৃত্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
২. সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরে প্রশাসনিক থানাকে বৃত্তি ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা।
৩. ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বৃত্তি কোটা পুনর্বহাল করা।
৪. বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টার প্রশিক্ষণে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা।
সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রেহানা আখতার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মাজেদ ও জেসমিন নাহার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হামিদুর রহমান, শিক্ষা সম্পাদক আবদুল আলীম, প্রচার সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র শিকদার, কেন্দ্রীয় গণমাধ্যম ও প্রকাশনা সম্পাদক জাকির হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক হাসিনা আখতারসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনের বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর করে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে তারা বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমানভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
মন্তব্য করুন