কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ লঙ্ঘনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কনের বাবাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের মৃত মো. গাজীউর রহমানের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান (৪৭) এবং মোছা. নাসিমা বেগম (৪০) দম্পতির ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ইসরাতুল জান্নাত স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
তাঁর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মো. মাহফুজ আহমেদ অন্তরের (২২) বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বিয়েকে কেন্দ্র করে বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙানো হয় এবং অতিথিদের আপ্যায়নের আয়োজনও চলছিল। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বরযাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন।
বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। জিজ্ঞাসাবাদে কনের বাবা-মা স্বীকার করেন, তাঁদের ১৩ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে তাঁর খালাতো ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
কনের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় বিয়ের আয়োজনটি ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিয়ের আয়োজনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মান্নান তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে কিশোরী ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগে তাঁর বিয়ে দেওয়া হবে না—এ মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।
এ সময় কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অর্পণ বিশ্বাস, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ফেসকার মো. ওবায়দুল্লাহ, সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, মো. আলী সোহেল ও লোকমান হোসাইনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অতিথি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং আইন প্রয়োগে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মন্তব্য করুন