সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খোলপাটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত সমানতালে একাধিক বাল্কহেড ও নৌযানের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, ফলে নদীর নাব্যতা, তীরবর্তী এলাকা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ চলে। বালুভর্তি বাল্কহেড ও নৌযান বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিনই নদী থেকে প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে। রাতের বেলাতেও বাল্কহেড চলাচল করে। আমরা প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে পাইনি।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীতীর ভাঙন বাড়বে। কৃষিজমি ও বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে এসব বন্ধ করা জরুরি।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, অনুমতি ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওহিদুজ্জামান বলেন, নৌ পুলিশ নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে রাতের অন্ধকারে আমাদের অজান্তে কোথাও বালু উত্তোলন হচ্ছে কি না, তা সবসময় জানা সম্ভব হয় না। মাঝে মধ্যে অভিযানে বালুবাহী নৌকা জব্দ করা হয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দ্রুত অভিযান চালানো হবে।
গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে নীলডুমুর বিজিবির অভিযানে বালুবাহী বাল্কহেডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়।
স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন