ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার আসামিরাও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা চারিত্রিক সনদ পাচ্ছেন, যা আইনগত বিধিনিষেধের পরিপন্থী। এ ঘটনায় থানার কনস্টেবল মোঃ রিমনের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ ঘুষ সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কনস্টেবল রিমন দীর্ঘদিন ধরে সোনাগাজী মডেল থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত কার্যক্রমে এককভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার মাধ্যমেই আবেদন গ্রহণ, যাচাই ও ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি শাহাদাত হোসেন টিপু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও ১২ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বা বিচারাধীন প্রক্রিয়া চলমান, তারা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার যোগ্য নন। তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এই নিয়ম উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নির্ধারিত ফি মাত্র ৫০০ টাকা হলেও বাস্তবে একজন আবেদনকারীকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। ব্যাংক ড্রাফট ও আবেদন ফি বাবদ প্রায় ১৫২০ থেকে ১৭০০ টাকা লাগলেও, থানার অভ্যন্তরে কনস্টেবল রিমনকে আলাদাভাবে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এরপর ফেনী থেকে ক্লিয়ারেন্স এনে দেওয়ার নামেও আরও ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফলে একটি সাধারণ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষকে প্রায় ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, জরুরি ভিত্তিতে ২-৩ দিনের মধ্যে ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হলে রেট আরও বেড়ে ৫০০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আর যেসব আবেদনকারীর নামে মামলা বা আইনি জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
এছাড়া যারা অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের ক্ষেত্রে নানাবিধ ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন বাতিল করা হয় বা দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সোনাগাজীর প্রবাসী ও বিদেশগামীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ফেনীর পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, যাতে পুলিশের সেবায় স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়।
মন্তব্য করুন