রাজশাহী মহানগরীতে এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সোমবার রাতে মতিহার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মতিহার থানার বাজে কাজলা এলাকার মুহিন (১৮) এবং ধরমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার এজাজুল হকের ছেলে আলী হাসান মোঃ মুজাহিদ (২২)। তারা উভয়েই রাজশাহী মহানগরীর বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হৃদয় নামের এক যুবকসহ আরও ৩ থেকে ৪ জন ব্যক্তি ভুক্তভোগী তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করে। সে সময় তুষারের বাবা মোঃ নাজির আলী তাদের জানান, তুষার বাড়িতে নেই। পরে তিনি ছেলেকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত আচরণ করে এবং বলে, “তাকে পেলেই কারণ বুঝতে পারবেন।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো ধরনের সুপারিশ বা হস্তক্ষেপ না করার জন্যও হুমকি দেওয়া হয়।
পরদিন ১০ মে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তুষার অভিযুক্ত হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজার কারণ জানতে চান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন যুবক অবস্থান করছিল। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে তুষারের ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নির্যাতনের সময় তুষারের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসতে শুরু করলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় তুষারকে উদ্ধার করেন।
তুষারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা মোঃ নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলায় শামীম (৫৫), হৃদয় (২২), আশিক (২২), মুহিন (১৮) এবং আলী হাসান মোঃ মুজাহিদ (২২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার গ্রহণের পর মতিহার থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মামলার ৪ ও ৫ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা সমাজে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত দেয় এবং দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন