মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সাচিলাপুর বাজারে রাতারাতি একটি ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি পরিত্যক্ত জমি দখলের উদ্দেশ্যেই প্রভাবশালী একটি মহল গভীর রাতে গোপনে টিনের ঘর নির্মাণ করেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বাজারজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাচিলাপুর বাজারের একটি সরকারি পরিত্যক্ত জায়গা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে ছিল। সেখানে কোনো স্থাপনা কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলছিল না। কিন্তু সোমবার দিবাগত গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি গোপনে নির্মাণ সামগ্রী এনে সেখানে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে। সকালে বাজারে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দেখতে পান, আগের দিনের ফাঁকা জায়গায় হঠাৎ করেই একটি ঘর দাঁড়িয়ে গেছে। এমন দৃশ্য দেখে অনেকে বিস্মিত হয়ে পড়েন।
খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ ঘটনাটিকে রসিকতার ছলে ‘অলৌকিক ঘটনা’ বললেও অধিকাংশ মানুষ এটিকে পরিকল্পিত ভূমি দখলের কৌশল হিসেবে দেখছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সরকারি মূল্যবান জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে রাতের আঁধারে এ কাজ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এই জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই কিছু ব্যক্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে প্রকাশ্যে কোনো পদক্ষেপ নিতে না পেরে তারা রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়েছে। গোপনে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করায় শুরুতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলেও পরে স্থানীয়দের চাপে জড়িতদের নাম সামনে আসতে শুরু করেছে।
সাচিলাপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে সরকারি জমি দখল চলতে থাকলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হবে। তারা দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি দখলের কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাটি উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনকে আরও কঠোর ও তৎপর হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের দখলচেষ্টার সাহস না পায়।
মন্তব্য করুন