পঞ্চগড় সদরের শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে তিন শিশু শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার জালাসী পাড়া এলাকায় অবস্থিত শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলো— বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রেজওয়ান খান অপূর্ব ও মিম হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাওহীদ হাসান আশিক। প্রথমে তাদের বিদ্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিফিন বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলছিল। খেলার এক পর্যায়ে বলটি বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়ির আঙিনায় গিয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বাড়ির মালিক জয়তুন বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন এবং শিশুদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি লাঠি দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন এবং তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহত শিশুদের উদ্ধার করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা জান্নাতুল পারভীন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেয়। ঘটনার দিন বল পাশের বাড়িতে গেলে ওই বাড়ির মালিক ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুদের মারধর করেন। শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি করছিল এবং তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
আহত শিক্ষার্থী তাওহীদ হাসান আশিকের বড় ভাই আবির বলেন, “শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। স্কুল মাঠে খেলার কারণে যদি তাদের মারধর করা হয়, তাহলে তারা নিরাপদে থাকবে কোথায়? আমরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীর শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জয়তুন বেগমের স্বামী হাচান আলি বলেন, তার স্ত্রী জানিয়েছেন রান্নাঘরে ফুটবল গিয়ে পড়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত লাঠি দিয়ে শিশুদের আঘাত করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা এবং বিদ্যালয় পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন