গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈরে মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে শিক্ষার্থী, গার্মেন্টস শ্রমিক ও বেকার তরুণদের একটি বড় অংশ এই অবৈধ জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, হরতকিতলা, আমতলা, ডাইনকিনি, মাইওয়ান, মৌচাক, সফিপুর ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার প্রবণতা বাড়ছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তারা জুয়ার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এতে অনেকেই বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, প্রথমদিকে অল্প টাকা বিনিয়োগ করে কিছু অর্থ লাভ করলেও পরে লোভে পড়ে নিয়মিত খেলতে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েছেন এবং পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়েছেন।
এক ভুক্তভোগী অভিভাবক বলেন, তার ছেলে অনলাইন জুয়ার কারণে কয়েক লাখ টাকার ঋণে জড়িয়ে পড়েছে। ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে সে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির বাইরে রয়েছে। এতে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
কালিয়াকৈর পৌর এলাকার এক গার্মেন্টস শ্রমিকের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামী মাসিক বেতনের বড় অংশ অনলাইন জুয়ায় ব্যয় করেন। ফলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং পারিবারিক কলহ বেড়েছে।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি ও অনলাইন জুয়ার প্রভাব বাড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি বড় অংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
মন্তব্য করুন