সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ব্যয় সাশ্রয়ের একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর উদ্বৃত্ত থাকা ১৪ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়ে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় উপজেলার নেছারউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাহাজনের বাড়ি পর্যন্ত ভারানীর খাল এবং চরখালি কাটাখাল পুনঃখননের জন্য ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ২ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ এ প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন করা হয়।
ইউএনও মো. হাসিবুল হাসানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত নকশা ও গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। কাজ শেষে ১৪ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত থাকায় সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে পুরো অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পলি জমে খাল দুটি প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনাকে তারা সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় খালগুলো ভরাট হয়ে কার্যকারিতা হারিয়েছিল। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমানো, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতেই পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। উন্নয়ন কাজের মান বজায় রেখে ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব হলে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়াই প্রশাসনের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, “সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাশ্রয় নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ভান্ডারিয়ার ইউএনও খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করে অব্যবহৃত ১৪ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়ে দায়িত্বশীলতা ও সুশাসনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থের যথাযথ ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এটি অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন কাজের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ ফেরত দেওয়ার এ ঘটনা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
মন্তব্য করুন