চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২ কেজি গান পাউডার ও ১৫০ গ্রাম হেরোইনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের নীলকুঠি মাঠ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনে অভিযান চালিয়ে এসব বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রাব্বি (২৬), মো. সোহেল ওরফে জিনজিরা (৩০) এবং মো. সুমিত ওরফে আলিফ (২৪)। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর মডেল থানার একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তরা রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই এসএম রাসেল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের নীলকুঠি মাঠ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনে তারা বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু ও মাদকদ্রব্য মজুদ করে রেখেছেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে ওই এলাকায় পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে দুইটি সাদা পলিথিনে রাখা মোট ২ কেজি গান পাউডার এবং দুইটি পলিপ্যাকে রাখা ১৫০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং জব্দ করা গান পাউডারের মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ অভিযানের প্রশংসা করে বলছেন, সমাজকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। তাদের মতে, মাদক ও বিস্ফোরকদ্রব্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
মন্তব্য করুন