চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (২১ মে) রাতে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের আশরাফ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ৫৩ বিজিবির মনাকষা বিওপির একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি পরিত্যক্ত দোকানে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে দোকানটির ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৭ বোতল ভারতীয় মদ, ৫১০ বোতল এস্কাফ সিরাপ, ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জব্দকৃত মাদক শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও অবৈধ পণ্য পাচার ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। সীমান্ত পথে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে দুর্গম সীমান্ত এলাকা, নদীপথ ও সম্ভাব্য চোরাচালান রুটগুলোতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সংঘটিত না হতে পারে।
স্থানীয়রা বিজিবির এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন