সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের তেলিকোনা গ্রামে ধর্মীয় মাসআলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিকোনা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের সুনু মিয়া ও আসাদ মিয়া সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে একটি ধর্মীয় মাসআলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও কথা-কাটাকাটি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবারের ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের বহু মানুষ আহত হন।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত প্রায় ৫০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি বলেন, “সংঘর্ষে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, বিষয়টি দ্রুত মীমাংসা না হওয়ায় সামান্য মতবিরোধ বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ ঘটনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের পর গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং সামাজিকভাবে সমাধানের মাধ্যমে এলাকায় দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
মন্তব্য করুন