রাশিয়া–ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। নিহত রিয়াদ রশিদ (২৬) জেলার কিশোরগঞ্জ জেলার জাফরাবাদ মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা এবং জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রশিদের একমাত্র ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৯ মাস আগে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় পাড়ি জমান রিয়াদ। সেখানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করার পর তিনি সম্প্রতি রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সেনাবাহিনীতে যোগদানের মাত্র এক মাস সাত দিনের মাথায় তার মৃত্যু ঘটে।
জানা গেছে, গত ২ মে ইউক্রেন–পোল্যান্ড সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই রিয়াদ রশিদের মৃত্যু হয় বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রিয়াদের মৃত্যুসংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই তার গ্রামের বাড়ি জাফরাবাদ মাঝিরকোনা এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা ও দুই বোন ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয়রা বাড়িতে ভিড় করছেন এবং পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রিয়াদ ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী স্বভাবের ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে তার এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোক ও হতাশা নেমে এসেছে।
জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, “রিয়াদের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক এবং শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হোক।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে দ্রুত রিয়াদ রশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক, যাতে পরিবার তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন