বিদায় ১৪৩২, স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে যখন দেশজুড়ে উৎসব, আনন্দ ও উল্লাসের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই ভিন্নধর্মী এক বার্তা দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। তিনি নববর্ষের সূচনা আনন্দ-উল্লাসের পরিবর্তে দোয়া, ফজরের নামাজ ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ অনেকের কাছে আনন্দ-বিনোদনের উপলক্ষ হলেও একজন সচেতন মুমিনের জন্য এটি হওয়া উচিত আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির সময়। গত এক বছরে নিজের জীবনে কী অর্জন হয়েছে, কোথায় ভুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে নিজেকে আরও উন্নত করা যায়—এসব বিষয় গভীরভাবে চিন্তা করার উপযুক্ত সময় হলো নতুন বছরের সূচনা।
কুরআনের আলোকে সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে দুধরচকী উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহ মানবজাতিকে সময়ের হিসাব বোঝার জন্য সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন। তাই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। বিশেষ করে নববর্ষের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা মানুষের আমলনামাকে কলুষিত করে বা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়।
তিনি হজরত আলী (রা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, “রাতের আঁধারে এমন কোনো কাজ করো না, যার জন্য দিনের আলোতে লজ্জিত হতে হয়।” এই বাণীর মাধ্যমে তিনি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নৈতিকতা ও আত্মসংযমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী আরও বলেন, একজন প্রকৃত মুমিন প্রতিদিনই নিজের আমলের হিসাব নেয়। তাই নববর্ষ কেবল একটি দিন নয়, বরং এটি হতে পারে নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার একটি সুযোগ। তিনি মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান, রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ, ফজরের নামাজ, দোয়া ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে নতুন বছর শুরু করতে এবং অতীতের ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে।
একই সঙ্গে তিনি বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ে তুলতে পারলেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
নববর্ষ উপলক্ষে তিনি দেশ, জাতি এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য শান্তি, কল্যাণ ও নিরাপত্তা কামনা করেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি সবাইকে সকল বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
উল্লেখ্য, হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী সিলেটের কদমতলীতে অবস্থিত হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতীব এবং জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মন্তব্য করুন