নড়াইল সদর উপজেলার একটি গ্রামে পাওনা টাকা আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসতঘরের টিন ও আসবাবপত্র খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ভুক্তভোগী জাফর শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে একদল ব্যক্তি ঘরের টিন, বেড়া ও আসবাবপত্র খুলে নিয়ে যায়। এমনকি গোয়ালঘর ও রান্নাঘরের চালা, খুঁটি ও বেড়াও খুলে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাফর শিকদারের ছেলে জাহিদ শিকদার গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট অঙ্কে টাকা ধার নিয়েছিলেন। ধার নেওয়া অর্থের পরিমাণ ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে বলে জানা গেছে। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে মিজানুর বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস, মিকাইল বিশ্বাস ও ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল লোক জাহিদ শিকদারের বাড়িতে যায়। প্রথম দফায় তারা বসতঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় গিয়ে রান্নাঘরের চালা, খুঁটি এবং ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রও সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন জাহিদের বৃদ্ধ দাদি খাদিজা বেগম (৮০)। তিনি জানান, হঠাৎ করেই অভিযুক্তরা এসে ঘরের টিন খুলতে শুরু করে এবং ভ্যানে করে সেগুলো নিয়ে যায়। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সহায়তার আশায় মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পাননি।
অভিযুক্তদের একজন মিকাইল বিশ্বাস অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে জানান, জাহিদ শিকদার তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনসহ কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা দীর্ঘদিনেও ফেরত দেননি। তিনি দাবি করেন, পাওনা টাকা আদায়ের জন্যই তারা ঘরের টিন খুলে নিয়ে বিক্রি করে টাকা তুলে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, আইনের বাইরে গিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি এবং এর দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন