সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের লক্ষ্যে চলমান তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মধু আহরণের অভিযোগে ১১ জন মৌয়ালকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার কেজি মধু এবং দুটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের টেংরাখালী বন টহল ফাঁড়ির সদস্যরা গহীন সুন্দরবন থেকে ফেরার পথে পিনমারি খাল এলাকা থেকে তাদের আটক করেন। পরে আটক মৌয়ালদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়।
আটক ব্যক্তিরা সবাই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তারা নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মধু সংগ্রহ করছিলেন।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, ১ জুন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ এবং বনজ সম্পদ আহরণের ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ সময় বন থেকে মাছ, কাঁকড়া, মধুসহ কোনো ধরনের সম্পদ আহরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই মৌয়ালরা নিয়ম ভঙ্গ করে বনে প্রবেশ করে মধু সংগ্রহ করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
তবে আটক হওয়া মৌয়ালদের দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, বন বিভাগের এক দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করেই তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। যদিও ১ জুন থেকে সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল, তথাপি ওই চুক্তির আশ্বাসে তারা মধু সংগ্রহের জন্য বনে যান। দীর্ঘ সময় বনে অবস্থানের পর ফেরার পথে বন বিভাগের সদস্যরা তাদের আটক করেন বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে বন বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে এসিএফ মশিউর রহমান বলেন, “এ ধরনের অভিযোগের বিষয়টি আমি প্রথমবারের মতো শুনলাম। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত জালাল মোল্লা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ মে বৈধভাবে তিনটি নৌকার পাস করিয়ে মৌয়ালদের সুন্দরবনে পাঠানো হয়েছিল। পরে দুটি নৌকা বনদস্যুদের কবলে পড়ায় তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরতে পারেননি। ফলে পাসের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং আইনগতভাবে তারা অবৈধ হিসেবে গণ্য হন। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত সময়ের জন্য সরকারি রাজস্ব পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হলে তাদের মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, মাছের প্রজনন, বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা এবং বনাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ ও বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ।
মন্তব্য করুন