পঞ্চগড়ে জমি সংক্রান্ত একটি মামলার হাজিরা দিতে এসে আদালতের বারান্দায় মৃত্যুবরণ করেছেন ময়নুল হক (৫৯) নামে এক ব্যক্তি। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ময়নুল হক জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বারো আউলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি জমি সংক্রান্ত মামলার প্রধান আসামি হিসেবে আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আদালতে এসে প্রথমে তিনি এজলাসের ভেতরে কিছু সময় অবস্থান করেন। এ সময় তিনি একবার বমিও করেন। পরে আদালতের বারান্দায় একটি বেঞ্চে গিয়ে বসেন এবং কিছুক্ষণ পর শুয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীর সহকারী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিচারপতির পরিদর্শন উপলক্ষে সেদিন আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়নি। ময়নুল হক আদালতে উপস্থিত থাকলেও তিনি অসুস্থতার কোনো কথা বলেননি। পরে দীর্ঘ সময় কোনো নড়াচড়া না দেখে কাছে গিয়ে দেখা যায় তিনি মারা গেছেন। এরপর পুলিশ ও তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, “লাঞ্চ বিরতির সময় তাকে ডাকার চেষ্টা করা হয়। পরে লোকজন কাছে গিয়ে দেখতে পান তিনি আর জীবিত নেই।”
নিহতের ভাতিজা ফয়সাল কবির জানান, তার চাচার কোনো গুরুতর অসুস্থতা ছিল না। মামলার তারিখ থাকায় তিনি নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে আদালতে এসেছিলেন। হঠাৎ মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে পরিবার হতবাক হয়ে পড়েছে।
পঞ্চগড় আদালতের পরিদর্শক খান মো. শাহরিয়ার বলেন, “বেঞ্চে শুয়ে থাকা অবস্থায় তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অনেকের ধারণা, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।”
এ বিষয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন কুমার বণিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে জানা যাবে।
ঘটনাটি আদালতপাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন