দুই বছরের বেশি সময়ের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগ দেড় মাস ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও তাদের স্বজনরা।
গত ২৮ জুন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর থেকে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গরমে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ বিল প্রায় তিন লাখ টাকা বকেয়া ছিল। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১ লাখ ৯২ হাজার ৭২৪ টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পুনরায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৭২৪ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানা গেছে।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য দুই থেকে তিনবার সতর্ক করা হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও বাজেট সংকটের কারণে সময়মতো বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেকেই হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় গর্ভবতী নারীদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অন্য হাসপাতালেও চলে যাচ্ছেন।
রোগী ও স্বজনরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়ে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, “দুই বছরের বেশি সময়ের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আগে বছরে দুইবার অধিদপ্তর থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হতো। দীর্ঘদিন এ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বর্তমানে পর্যায়ক্রমে বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে।”
শ্রীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শামীম উদ্দিন বলেন, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। দ্রুত বিল পরিশোধের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার নোটিশ ও সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল।
একটি গুরুত্বপূর্ণ মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগী ও সচেতন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন