দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হিলিতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। মাদক বহনকারী ও সেবনকারীদের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের এ তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
হাকিমপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ৮৬টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৪৫২ জনকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী হওয়ায় হিলিতে মাদকের বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির কারণে মাদক আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় হাকিমপুরে মাদকের বিস্তার বেশি। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানকে তারা স্বাগত জানান। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশের যেকোনো সহযোগিতায় তারা পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, মাদকসেবীদের শনাক্ত করতে পরীক্ষার জন্য একটি ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি কার্যকর হলে মাদকসেবীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। প্রশাসন ও পুলিশের চলমান অভিযানে হিলিতে মাদকের প্রবণতা আরও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হাকিমপুর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী বলেন, শুধু পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আলীহাট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আল ইমরান বলেন, পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর তৎপরতার কারণে এলাকায় মাদক আগের তুলনায় কমেছে। তবে যারা এখনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় হিলিতে মাদকের সহজলভ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে যারই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সভা ও সেমিনার করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়াতে কেউ সুপারিশ বা তদবির করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন