পটুয়াখালীর মহিপুর থানার বাজার এলাকার কাঠপট্টি রোড সংলগ্ন নদীর পাড়ের সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গভীর রাতে নদীর তীরবর্তী সরকারি জমি দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, মহিপুর এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে রাতারাতি সরকারি খাস জমিতে ঘর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের সহায়তায় অবৈধ অর্থের বিনিময়ে এ দখল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড়ের ওই জায়গাটি খালি ছিল। হঠাৎ করেই এক রাতের মধ্যে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মহিপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য সামুদ্রিক মাছ ধরার ট্রলার নদীর তীরে নোঙর করে। স্থানীয় জেলেদের আশঙ্কা, এভাবে নদীর পাড় দখল হতে থাকলে ট্রলার নোঙর করার জায়গা সংকুচিত হবে এবং মৎস্য বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয়দের মতে, নদীর তীর দখলের ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও নাব্যতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইতোমধ্যে মহিপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর দখল ও ভরাটের কারণে নদীর প্রশস্ততা কমে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, অতীতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে নদীর তীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ফলে সরকারি খাস জমি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অবৈধ দখল রোধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও সরকারি জমি দখলের শিকার হতে পারে এবং মহিপুর মৎস্য বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মহিপুর ভূমি অফিস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা সরকারি খাস জমি উদ্ধার এবং নদীর তীর রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন