বাগেরহাটের রামপালে ‘জয় অব গিভিং’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৮০ জন স্বাবলম্বী উপকারভোগী তাদের ৮০ জন দুঃস্থ প্রতিবেশীকে গরু, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেছেন। ওয়ার্ল্ড ভিশন রামপাল এডিপির উদ্যোগে বুধবার (১৫ জুলাই) এ ব্যতিক্রমী সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন রামপাল কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বিনয় কুমার দে, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা শেফা এবং প্রেসক্লাব রামপালের সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ফুলি সরকার বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন দীর্ঘদিন ধরে রামপালের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে সংস্থাটি ২ হাজার ২৬৩ জন দুঃস্থ উপকারভোগীকে নগদ অর্থ, গরু, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগি দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আজকের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, যাদের একসময় সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তারা এখন নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন এবং ‘জয় অব গিভিং’ উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিবেশীদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আজ ৮০ জন উপকারভোগী তাদের ৮০ জন দুঃস্থ প্রতিবেশীকে সহায়তা করছেন। আমাদের ছোট্ট অবদানই অন্যের বড় স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হতে পারে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসি এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর এ সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হলে অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হতে পারবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এলে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠানে সহায়তাপ্রাপ্ত ও উপকারভোগী পরিবারগুলো এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন