কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া সড়কের শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক প্রাইভেটকার চালককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৩৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যা চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আটক ব্যক্তির নাম নাসির উদ্দীন (২৫)। তিনি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার আলিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং মোস্তাক মিয়ার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকার শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তল্লাশির এক পর্যায়ে বিজিবির প্রশিক্ষিত নারকোটিক্স ডগ “হেনরি”-এর সহায়তায় গাড়িটিতে সন্দেহজনক কিছু চিহ্নিত করা হয়। পরে গাড়ির সামনের বাম্পারের ভেতর বিশেষভাবে তৈরি গোপন কুঠুরিতে অভিনব কৌশলে লুকানো অবস্থায় ১৮টি মিনি কার্টনে রাখা মোট ৩৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রাইভেটকার চালক নাসির উদ্দীনকে আটক করা হয় এবং মাদক পাচারে ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন যে, তিনি টেকনাফ এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে কক্সবাজারে অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় জড়িত মাদক সরবরাহকারী ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা, জব্দকৃত প্রাইভেটকার এবং আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত রক্ষায়ই নয়, দেশের অভ্যন্তরে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার অঞ্চলের রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে আসছে। তাদের ধারাবাহিক এ কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন