কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। অভিযানে ৮টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ ইভার নেতৃত্বে এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিকু নাহারের উপস্থিতিতে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পানান বিল ও সংরক্ষিত জলাশয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে ৮টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এনে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, গত ৩০ জুন দৈনিক নয়া সংবাদ, দৈনিক আজকের পত্রিকা ও দৈনিক গোমতী বার্তায় হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহারের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই প্রশাসন এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান সম্পর্কে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ ইভার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিকু নাহার বলেন, “পানান বিল ও সংরক্ষিত জলাশয়ে অভিযান পরিচালনা করে ৮টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। দেশীয় মাছের প্রজনন, মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি এসব জালের উৎপাদন, সরবরাহ, বিক্রি ও আমদানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে দেশীয় মাছের প্রজনন, মৎস্যসম্পদ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য আরও কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন