সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে মুক্তিপণ পাঠানো হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন।
সোমবার (১১ মে) বিকেল থেকে বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেন উদ্ধার হওয়া জেলে-মৌয়ালরা। এতে স্বস্তি ফিরলেও নিখোঁজ দুই পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ এবং ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনী’র পরিচয়ে সশস্ত্র দস্যুরা সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদী, ধানোখালির খাল, মামুন্দো নদী ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে।
পরে অপহৃতদের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কয়েক দফা দর-কষাকষির পর নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর ধাপে ধাপে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তিপণ দিয়ে ফেরা ১৮ জনের মধ্যে মুরশিদ আলম, করিম শেখ, আবু ইসা, মমিন ফকির, আল-আমিন, আবুল বাসার বাবু, আবুল কালাম, শাহাজান গাজী, সিরাজ গাজীসহ আরও অনেকে রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে দস্যুরা বলে জানা গেছে।
তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামের দুই জেলের পরিবার দাবি করেছে, ৩০ হাজার টাকা করে পাঠানো হলেও তারা এখনো বাড়ি ফেরেননি। এতে তাদের পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
ফিরে আসা জেলেরা অভিযোগ করেন, সুন্দরবনে এখনও জলদস্যুদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তারা বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং দস্যু দমনে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, জলদস্যু দমনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবার নিজ উদ্যোগে দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা করে থাকে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্তব্য করুন