
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির মা পারভীন আক্তার। মঙ্গলবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
এদিন প্রথমে রামিসার বাবা সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্য ও জেরা শেষে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে রামিসার মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। বেলা ১১টা ৩ মিনিটের দিকে পারভীনের সাক্ষ্য শুরু হয়। এ সময় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।
পারভীন আক্তার আদালতে বলেন, গত ১৯ মে সকালে ঘটনাটি ঘটে। আমি তখন রান্না করছিলাম। বড় মেয়ে রাইসাকে চাচার বাসায় যেতে বললে ছোট মেয়ে রামিসাও যেতে চায়। আমি তাকে যেতে নিষেধ করি। একপর্যায়ে বাচ্চার চিৎকার শুনতে পাই। পরে জানতে পারি রামিসা নিখোঁজ।
তিনি বলেন, তিনতলায় সোহেলদের দরজার সামনে মেয়ের জুতা পড়ে থাকতে দেখি। বারবার দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলি— ‘বইন দরজাটা খোল। দরজাটা খোল। আমি তোকে কিছু বলব না।’ কিন্তু স্বপ্না দরজা খোলে না।
পারভীন আক্তার বলেন, অনেক চেষ্টার পর দরজার লক ভাঙা হয়। ছিদ্র দিয়ে দেখি বাথরুম খোলা আর ভেতরে রক্ত। দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের মাথা বাথরুমের বালতিতে আর দেহ আসামিদের রুমের খাটের নিচে। আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।
পিপি আজিজুর রহমান দুলু স্বপ্না সম্পর্কে জানতে চাইলে রামিসার মা কাঠগড়ার দিকে হাত দিয়ে বলেন, ওই যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। আমি কত বলছি, বইন দরজাটা খোল— কিন্তু খোলে নাই সে। এ কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এর আগে গত ১৯ মে পল্লবীর ওই ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার গ্রেপ্তার হন। আদালতে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন সোহেল। চার্জশিটে মাদকাসক্ত সোহেলের ধর্ষণ ও স্বপ্নার লাশ গুমে সহযোগিতার কথা উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত। সাক্ষ্য শেষে আসামিদের কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
মন্তব্য করুন