বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত উন্নয়ন আরও জোরদার করার প্রত্যাশার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সদ্য সাবেক বিশ্বব্যাংকের কনসালট্যান্ট ও জনস্বার্থ বিশেষজ্ঞ মো. ফেরদৌস প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) মহোদয়ের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
মো. ফেরদৌস দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা World Bank-এর কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং টেকসই সেবা কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তব জ্ঞান একত্রিত হলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব। মো. ফেরদৌসের মতো অভিজ্ঞ একজন পেশাজীবীর প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা স্বাস্থ্যখাতে নীতি বাস্তবায়ন আরও গতিশীল করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার-এর দিকনির্দেশনায় স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিকায়নের চলমান উদ্যোগে নতুন এই নিয়োগ সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এই সমন্বয় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাভারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় নাগরিকরা এ নিয়োগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সমন্বয় স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
স্থানীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিন ধরে যে কাঠামোগত ও সেবাগত সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানে দক্ষ জনবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে এ ধরনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
এদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহলও এ নিয়োগকে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, উন্নয়ন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রশাসনিক দায়িত্বে যুক্ত করা হলে নীতি বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হয়।
সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, মো. ফেরদৌসের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, জনগণবান্ধব এবং কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
মন্তব্য করুন