দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, একজন ভালো লেখক হওয়ার পূর্বশর্ত হলো ভালো পাঠক হওয়া। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। তাই বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং নতুন প্রজন্মকে পাঠাভ্যাসের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তফা মামুন বলেন, “যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে আনন্দের সঙ্গে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”
নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিল, কিন্তু বই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।”
লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোনো লেখা শেষ করার পর আমি প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে সেটি পড়ি। আমার নিজের ভালো না লাগলে পাঠকেরও ভালো লাগবে না। আমি আমার সহকর্মী সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে মনোযোগ দিয়ে চিন্তা করতে হবে, পড়তে হবে এবং তারপর লিখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, খেলা ও সাহিত্য—এই দুই ক্ষেত্র নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি কাজ করেন। এসব অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার কারণে অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মোস্তফা মামুন বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে সোচ্চার হতে হবে। কারণ পরিবর্তন কখনো একা আসে না, এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”
নিজ এলাকা কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তবে আমাদের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারি না।”
দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি যাত্রা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশের জন্য বিশেষ পাতা চালু করা হয়েছে, যাতে সমাজে ভালো কাজের চর্চা আরও উৎসাহিত হয়।
অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়ের কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়ের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী এবং সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে ‘আদর্শ পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ায় উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন