গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ি এলাকার বাঁশতুলী তুরাগ নদী ও মকশবিল এলাকায় পিকনিকের নামে নৌকায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, মাদক সেবন এবং অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ডিজে পার্টির আয়োজনকে কেন্দ্র করে নদীর আশপাশের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা, টাঙ্গাইল, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে রঙিন নৌকা ভাড়া করে একটি চক্র তুরাগ নদীতে আসে। নৌকাগুলোতে বড় সাউন্ডবক্স ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করে রাত পর্যন্ত ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আয়োজনের সময় প্রকাশ্যে মাদক সেবন করা হয় এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কেউ কেউ অশোভন আচরণ ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন। উচ্চ শব্দে গান-বাজনার কারণে নদীর আশপাশে বসবাসকারী মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলেও তারা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এলেই নদীর আশপাশে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। উচ্চ শব্দের কারণে রাতে ঘুমানো যায় না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। পরিবার নিয়ে নদীর পাড়ে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিছু অসাধু নৌকার মালিক মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব নৌকা ভাড়া দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের। এতে কালিয়াকৈরের সামাজিক পরিবেশ ও যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বলেন, “আমরা বারবার এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য বলেছি। কিন্তু তারা কথা শোনে না। প্রশাসন এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এলাকার পরিবেশ আরও নষ্ট হয়ে যাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, কিছুদিন আগে থানা পুলিশ নদীতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে পিকনিকের কয়েকটি ট্রলার আটক করেছিল। ওই অভিযানের পর কিছুদিন এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি আবারও পিকনিকের আড়ালে দিন-রাত ডিজে পার্টি ও অশালীন নৃত্যের আয়োজন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। নদীতে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের উৎসব কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। খুব দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের সমন্বয়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা গোপনে নজরদারি করছি। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নদীতে বিশেষ টহল বাড়ানো হবে। যারা মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে, বাঁশতুলী তুরাগ নদীতে পিকনিকের নামে অভিযোগ ওঠা এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৬
মন্তব্য করুন