শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এক হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি আলমগীর গাজী (৩৬) কে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১ জুন) দুপুর ২টার দিকে র্যাব-১৩ এর একটি বিশেষ দল কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানাধীন উমর মজিদ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আনন্দ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আলতাফ হোসেনের বসতবাড়ির উত্তর দুয়ারী ঘর থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর বিকেলে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার গান্দিগাঁও এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোঁপের ভেতর থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয় মোছা. এলিজা বেগম (৩৫) হিসেবে, যিনি গ্রেফতারকৃত আলমগীর গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী।
তদন্তে আরও উঠে আসে, পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের জেরে ওই নারীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে ভিকটিমকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝোঁপের ভেতরে ফেলে পালিয়ে যায় আসামি ও তার সহযোগীরা।
এ ঘটনায় নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত চলাকালে আসামির পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটিত হয়।
র্যাব-১৩ জানায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা আলমগীর গাজীকে গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত ছিল। অবশেষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন