বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সন্তান আব্দুল হালিম আজ পরিচিত একজন পরিবেশ ও উপকূল রক্ষার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে। উপকূলীয় মানুষের অধিকার ও দুর্ভোগের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় তার নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
নদী, খাল, বন ও সাগরঘেরা এই অঞ্চলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আব্দুল হালিম শৈশব থেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার ভয়াবহতা। সিডর, আইলা, বুলবুল, আম্পান ও ইয়াসসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলের মানুষের ভেঙে পড়া জীবনযাত্রার সাক্ষী হয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দুর্যোগের সময় শুধু পর্যবেক্ষক হিসেবে না থেকে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আব্দুল হালিম। বাঁধ রক্ষা আন্দোলন, ত্রাণ কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।
বিশেষ করে নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙনের বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে তিনি বিভিন্ন সময়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার মানুষ হিসেবে তিনি মনে করেন, সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, বরং উপকূলের মানুষের প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়াল। তাই বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, নদী দূষণ রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন।
আব্দুল হালিম বলেন, উপকূল রক্ষা করতে হলে আগে প্রকৃতি রক্ষা করতে হবে। জনগণের সচেতনতা ও টেকসই উন্নয়নই পারে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে।
স্থানীয়রা মনে করেন, আব্দুল হালিম শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি উপকূলের সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। তার কাজ ও সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই উপকূল গড়ে তোলার প্রত্যাশাকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।
মন্তব্য করুন