সদ্য ঘোষিত বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের ৮ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে স্থান পেয়েছেন শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সন্তান শামীম শিকদার। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে জেলা ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ পদে তার অন্তর্ভুক্তি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেওয়া শামীম শিকদারের দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইউসুফ আলী শিকদার ছিলেন শরণখোলা উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, সাবেক ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ নেতা। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশ থেকেই তার রাজনীতিতে আগ্রহ তৈরি হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে শামীম শিকদারের বাবা হালিম শিকদার দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। ছোট ভাইও প্রবাসজীবন বেছে নিলেও শামীম দেশের মাটি ও মানুষের কাছেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করে তিনি ধীরে ধীরে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
২০০৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। পরে ২০১১ সালে শরণখোলা ডিগ্রি কলেজ, বর্তমানে সরকারি কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। অল্প সময়েই সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেন।
পরবর্তীতে উপজেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন শামীম শিকদার। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি শরণখোলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনকালে দলকে সুসংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়েও মাঠে সক্রিয় ছিলেন শামীম শিকদার। ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পাঁচবার গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় আট মাস কারাবরণ করেন। তবে মামলা ও কারাবরণ তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করেন তার সহকর্মীরা।
উপজেলা ছাত্রদলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে খুলনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অংশ নেন।
দলের প্রতি দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার মূল্যায়ন হিসেবেই তাকে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় এই তরুণ নেতাকে ঘিরে শরণখোলায় ইতোমধ্যেই সম্ভাবনাময় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, কর্মীবান্ধব রাজনীতি ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি আগামীর নেতৃত্বে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন