পটুয়াখালীর মহিপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ কেজি ৫৪০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই নারীসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আরও দুই মাদক কারবারি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহিপুর থানার একটি বিশেষ দল উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়ামিশ্রিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ তাদের আটক করে এবং তল্লাশি চালিয়ে ১ কেজি ৫৪০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. হারুন ঘরামী (৩০), পিতা মো. মফেজ ঘরামী; মোছা. হামিদা বেগম (৪০), স্বামী আলী হোসেন ঘরামী এবং মোছা. পারুল বেগম (৪০), স্বামী মো. মনির হাওলাদার। তারা সবাই মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়ামিশ্রিপাড়া এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের হাতে-নাতে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার পরিমাণ ও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সদস্য বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযান চলাকালে অভিযুক্ত আরও দুই মাদক ব্যবসায়ী আলী হোসেন ঘরামী (৪৫), পিতা মৃত রফেজ ঘরামী এবং আমির হোসেন (৪০), পিতা মো. মফেজ ঘরামী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি মহিপুর থানার মামলা নং-০৯, তারিখ ১২/০৬/২০২৬, ধারা ৩৬(১) সারণির ১৯(ক)/৪১ অনুযায়ী রুজু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “মাদক নির্মূলে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের এমন কার্যকর অভিযান এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
মন্তব্য করুন