
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মায়ের কোল থেকে এক মাস সাত দিনের নবজাতক শিশুকে ছুড়ে ফেলে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুর রউফ মিয়া (৬০) নামের এক মুদি দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউরা ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের কৈজানী নদীর ঘাটসংলগ্ন গিয়ালী খালের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারী সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রগা ইউনিয়নের নূরনগর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর গ্রামের রিপন মিয়ার (৩০) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। গত ১৫ মে যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্বামী তাঁকে একতরফা ডিভোর্স দেন।
এরপর ১৭ মে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি নবজাতক শিশুকে নিয়ে নায়েকপুর থেকে বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। কৈজানী নদী পেরিয়ে তেতুলিয়া ঘাটে পৌঁছে তিনি ঘাটসংলগ্ন মুদি দোকানদার আব্দুর রউফ মিয়ার দোকানে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আব্দুর রউফ মিয়া তাঁকে রাতে তাঁর বাড়িতে থেকে সকালে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তিনি শিশু ও ব্যাগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে রওনা হলে পথে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আব্দুর রউফ তাঁকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন।
ভুক্তভোগী রাজি না হওয়ায় রউফ তাঁর কোল থেকে শিশুটিকে ছুড়ে ফেলে দেন এবং রামদা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় কাছেই বরশি দিয়ে মাছ ধরতে আসা এক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারী পালিয়ে যান। পরে তিনি প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে চিৎকার করে স্থানীয়দের ঘটনা জানান।
স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনার প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর পাটক্ষেত থেকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে বাজারে নিয়ে আসা হয়।
খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান। এরপর কেন্দুয়া ও মদন থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সোমবার (১৮ মে) সকালে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কেন্দুয়া থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আব্দুর রউফকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
নবজাতক ও ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন