পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা জাহিদ মাহমুদ সুমন সমন্বিত কৃষি চাষের মাধ্যমে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মাত্র ৮৮ শতক জমি নিয়ে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা তার কৃষি উদ্যোগ তিন বছরের ব্যবধানে সম্প্রসারিত হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ একর জমিতে। বর্তমানে এ খামার থেকে বছরে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।
উপজেলার রাধানগর এলাকায় গড়ে তোলা এ সমন্বিত কৃষি প্রকল্পে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের সফল সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। খামারটিতে ভারতীয় শাহী জাতের পেঁপে, আম, বাতাবি লেবুর বাগানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। বহুমুখী এ কৃষি কার্যক্রমই তার সাফল্যের মূল ভিত্তি।
খামারের প্রধান আকর্ষণ ভারতীয় শাহী জাতের পেঁপে। প্রতিটি পেঁপের ওজন তিন থেকে চার কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খামারে প্রায় ৪০০টি পেঁপে গাছ রয়েছে এবং প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে প্রায় তিন হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি হয়।
পেঁপে চাষের পাশাপাশি খামারের তিনটি পুকুরে তেলাপিয়া, পাঙাশ, রুই, কাতলা, গুলিশা ও গলদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে আম ও বাতাবি লেবুর বাগান। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় খামারের উৎপাদন ও লাভজনকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ খামারে নিয়মিত পাঁচজন শ্রমিক কাজ করেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন ভান্ডারিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, উদ্যোক্তা ও আগ্রহী দর্শনার্থীরা খামারটি পরিদর্শনে আসছেন এবং সমন্বিত কৃষি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন।
তরুণ উদ্যোক্তা জাহিদ মাহমুদ সুমন বলেন, “সব ধরনের খরচ বাদ দিয়েও বছরে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভ থাকে। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক পদ্ধতি এবং পরিশ্রম থাকলে কৃষিতেই সফল হওয়া সম্ভব।”
ভান্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “সুমনের খামারটি সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনার একটি সফল উদাহরণ। কৃষি অফিস থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তার উৎপাদিত পেঁপে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে জাহিদ মাহমুদ সুমনের মতো আরও তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে। এতে পিরোজপুরে সমন্বিত কৃষি চাষের পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য করুন