মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ
১ মে ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ক্ষমতার ছায়ায় শিক্ষক অপমান—আমরা কোন সমাজে দাঁড়িয়ে আছি?

শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পাল

শিক্ষক সমাজ গঠনের নীরব কারিগর। একটি শিশুর প্রথম স্বপ্ন, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে ওঠে একজন শিক্ষকের হাত ধরে। অথচ সেই শিক্ষকেরই সম্মান যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন তা কেবল একজন মানুষের অপমান নয়—এটি পুরো সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এক শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অপমান করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীর সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগও রয়েছে—শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে শাসনের ঘটনা থেকেই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত।

ঘটনার প্রকৃত সত্য এখনও তদন্তাধীন। তবে এই ঘটনাই আমাদের সামনে বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনের সীমারেখা কোথায় শেষ হয়? আর অপমান ও অনিয়ম কোথা থেকে শুরু হয়?

আজকের বাস্তবতা হলো, সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই সত্যের চেয়ে পরিচয়, আর ন্যায়ের চেয়ে প্রভাব বড় হয়ে উঠছে। একজন সাধারণ শিক্ষক ও একটি প্রভাবশালী পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কি একই থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।

আরো পড়ুন...  ক্ষমতার বন্দুকের নীচে বাংলাদেশ

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হওয়া উচিত বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও মানবিকতার ভিত্তিতে। সেখানে ভয়, অপমান বা প্রতিশোধের কোনো স্থান থাকতে পারে না। কিন্তু যখন এই সম্পর্কের মধ্যে ক্ষমতার ছায়া পড়ে, তখন শিক্ষা ব্যবস্থার পবিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যদি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তার সঠিক বিচার হওয়া উচিত আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আবার কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু ব্যক্তিগত প্রভাব বা ক্ষমতার ব্যবহার যদি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, তবে তা সমাজের জন্য ভয়াবহ দৃষ্টান্ত তৈরি করে।

এই ঘটনাটি আমাদের সামনে একটি আয়নার মতো দাঁড়িয়ে আছে। সেই আয়নায় আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের সমাজের বাস্তব চেহারা—যেখানে ন্যায়, মানবিকতা ও মূল্যবোধ প্রতিনিয়ত পরীক্ষার মুখে পড়ছে।

এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য তদন্ত। সত্য যাই হোক, তা জনসম্মুখে আসা উচিত। কারণ অন্যায়কে আড়াল করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি নির্দোষ কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও সমান অন্যায়।

শিক্ষকের মর্যাদা কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া উচিত নয়। আবার কোনো শিক্ষার্থীর নিরাপত্তাও অবহেলিত হওয়া উচিত নয়। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই একটি সভ্য সমাজের দায়িত্ব।

আরো পড়ুন...  ফেসবুককে বিচারক বানিয়ে ফেলছি না তো?

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—আমরা কি সত্যিই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই, নাকি ধীরে ধীরে ক্ষমতার প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত এক সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি?

শিক্ষকের অশ্রু যেন আর কখনো ক্ষমতার ছায়ায় হারিয়ে না যায়—এটাই সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চিকিৎসকহীন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাবুর্চির চিকিৎসা

জগন্নাথপুর-পাগলা সড়কে ডাকাতি

রাজশাহীতে মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

রাজমিনা মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল বিশ্বনাথ

খরনা ইউপিতে আলোচনায় করিম মেম্বার

সয়াবিন তেলের বোতলে মাছি!

পুলিশের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগে নারীর সংবাদ সম্মেলন

রেলওয়ের জমি উচ্ছেদ অভিযান

চরাঞ্চলে নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালু

বাগেরহাটে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত

১০

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: যুবক আটক

১১

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ

১২

রহনপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা

১৩

ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

১৪

বাগেরহাটে নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

১৫

শ্রীমঙ্গলে বিরল প্রজাতির হেলে সাপ উদ্ধার

১৬

কুলাউড়ায় নতুন ইউএনও সানজিদা আক্তার

১৭

কিশোর গ্যাং সংঘর্ষে যুবক নিহত

১৮

অনুমতিহীন মার্কেট নির্মাণের জেরে বদলি মৌলভীবাজারের এসপি

১৯

টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে সুড়ঙ্গ ও গোপন কক্ষের সন্ধান

২০