বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বাজারের অন্তত ছয়টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার (৫ মে) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাদশা মিয়ার বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে শরণখোলাগামী একটি যাত্রীবাহী পরিবহনের যাত্রীরা প্রথমে বাজারে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। পরে তারা স্থানীয়দের বিষয়টি অবহিত করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে আগুনে পুড়ে যায় ছয়টি দোকান, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন আউয়াল মৃধা (ইলেকট্রনিক্স দোকান), গোলক মন্ডল ও শেখর চন্দ্র হালদার (ওষুধের দোকান), জাকারিয়া মুন্সী (মুদি মনোহারি দোকান), সুমন শেখ (গার্মেন্টস দোকান) এবং চিত্ত দত্ত (সিট কাপড় ও টেইলার্স দোকান)।
ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী আউয়াল মৃধা জানান, তার দোকানে থাকা ৬৫টি মাইকের ইউনিট, ৪৫টি হর্ন, ৩৭টি মাইক সেটসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। এতে তার একারই প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে শেখর চন্দ্র হালদার বলেন, গভীর রাতে স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখেন তার দোকানসহ আশপাশের দোকানগুলো আগুনে পুড়ছে।
ব্যবসায়ীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, একটি ইলেকট্রনিক্স ও ব্যাটারি চার্জিং দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অনেকেই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা ব্যাটারি চার্জিংয়ের ত্রুটিকে এ ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার পরদিন সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।” তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
মন্তব্য করুন