কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও একাধিক অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। বুধবার (৬ মে) বিকেলে মিরপুরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সুবিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন।
জানা গেছে, রাবেয়া খাতুন দীর্ঘদিন প্রবাসে দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি অভিযোগ করেন, দুবাইয়ে অবস্থানকালে তারিক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তারা দেশে ফিরে আসেন। দেশে আসার পর তারিক ইউরোপের মাল্টা যাওয়ার পরিকল্পনা করলে রাবেয়া তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। বিভিন্ন সময়ের চাহিদা পূরণে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে দাবি করেন।
রাবেয়া খাতুন অভিযোগ করেন, মাল্টায় যাওয়ার পর তারিক তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। বরং দেশে ফিরে এসে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতিবাদ জানালে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, তারিকের দুই ভাই—পুলিশ কনস্টেবল মাহবুবুল হক তাজিম ও মাহফুজুল হক তৌহিদ—তার স্বামীর পক্ষ নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এমনকি এলাকাবাসী কেউ তার পক্ষে কথা বললে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
রাবেয়া খাতুন দাবি করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন এবং স্বামীর প্রতারণার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সংসারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক অবদান রাখার পরও তিনি এখন অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়েও বেআইনি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি তার আর্থিক ক্ষতির প্রতিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুনের উত্থাপিত অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকেই সবার দৃষ্টি।
মন্তব্য করুন