সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওকে ঘিরে রাজশাহীসহ দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কের পাশে কয়েকজন যুবক অস্বাভাবিক ও ভারসাম্যহীন আচরণ করছেন। দীর্ঘসময় একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা, ঝিমিয়ে পড়া এবং চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকার দৃশ্য দেখে নেটিজেনদের অনেকেই এটিকে কথিত ‘জম্বি মাদক’-এর প্রভাব বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
ভিডিওগুলোর মধ্যে রাজশাহীর বাটার মোড় ও গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার কিছু দৃশ্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই যুবকদের আচরণ ছিল সাধারণ নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক বেশি অস্বাভাবিক ও ভীতিকর।
সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আলোচিত ‘জম্বি ড্রাগস’ বা ‘জাইলাজিন’ (Xylazine) নামের ভয়ংকর মাদক কি তবে বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া ‘জাইলাজিন’ মূলত একটি শক্তিশালী সেডেটিভ জাতীয় রাসায়নিক, যা অতিরিক্ত সেবনে মানুষের শরীর ও স্নায়ুতন্ত্রকে অচল করে দেয়। এর প্রভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অনেক সময় জীবন্ত মৃতদেহের মতো দেখায়। ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে এই মাদক নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমেও একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র ভিডিও দেখে এটিকে নিশ্চিতভাবে ‘জম্বি ড্রাগস’-এর প্রভাব বলা ঠিক হবে না। তাদের মতে, এমন আচরণের পেছনে আরও বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— উচ্চমাত্রার নতুন কোনো সিনথেটিক মাদকের প্রভাব, মানসিক বা স্নায়বিক জটিলতা, দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতা বা অপুষ্টিজনিত সমস্যা।
এদিকে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তাদের প্রকৃত শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রকৃত কারণ জানতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নমুনা বিশ্লেষণ এবং বৈজ্ঞানিক তদন্ত প্রয়োজন।
তারা আরও সতর্ক করে বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। সন্দেহজনক মাদক কারবার বা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।
মন্তব্য করুন