
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর’ বিষয়ে তিনি কাউকে কোনোভাবেই এভাবে দেখাননি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দেখানো বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা উল্লেখ করে তিনি এমনভাবে দেখিয়েছিলেন বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে এক অপরাধের বিরুদ্ধে তিনবার সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তিনি এমন প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন করতে পারবেন না যারা “আগেই পক্ষপাতিত্ব করছে”।
সোমবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন। তিনি নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভার নামে সমাবেশ করছে, স্টেজ করে মাইক দিয়ে সমাবেশ করছে, গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে তিনি জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে যান এবং জানতে চান কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে; কিন্তু কোনো সঠিক উত্তর পাননি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে রুমিন ফারহানা বলেন, “৫ আগস্টের কথা মনে রাখবেন। আশা করি প্রশাসন, পুলিশ, কমিশন ও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে ডান চোখ, কাউকে বাম চোখে দেখবেন না। নিরপেক্ষতা না থাকলে সারা বাংলাদেশে যেমন ৫ আগস্ট হয়েছিল, তেমনিভাবে যেকোনো আসনে ৫ আগস্ট ঘটতে পারে।”
এদিকে রুমিন ফারহানাকে ২২ জানুয়ারি বেলা ১১টায় স্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রুমিন ফারহানা বলেন, “নির্ধারিত সময়ে আইনজীবী গিয়ে জবাব দেবেন। নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসার এমন নোটিশ দিতে পারেন না,”—এ মন্তব্য করে তিনি আচরণবিধি সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি করার অভিযোগও করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবকর সরকারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বিশাল জনসমাবেশ আয়োজন করে রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। চিঠিতে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং রুমিন ফারহানা ম্যাজিস্ট্রেটকে আক্রমণাত্মকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হুমকি দেন। এতে মব সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান করা হয়—যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
রিটার্নিং অফিসারের কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, রুমিন ফারহানা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ৪০০-৫০০ জনের উপস্থিতিতে জনসভা করে, স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। ম্যাজিস্ট্রেট জনসভা বন্ধ করতে বললে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন হুমকি দেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তার কর্মীরাও মারমুখী আচরণ করে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “কারো মনগড়া কথা বললে তো চলবে না। কারণ দর্শানোর নোটিশ আমি যে কাউকে, যে কোনো প্রার্থীকেই দিতে পারি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করা মাত্রই নোটিশ দেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন