“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা; সংরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ভূমি মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ মেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা নাসরিন। অনুষ্ঠানে ভূমি সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা চত্বর থেকে বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে অনলাইন ও সরাসরি ভূমি সেবা গ্রহণের বিভিন্ন পদ্ধতি উপস্থাপন করা হয়। সাধারণ মানুষ কীভাবে সহজে নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, জমাখারিজসহ বিভিন্ন সেবা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে পেতে পারেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি সেবাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও জটিলতা ছিল অন্যতম বড় সমস্যা। প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা চালুর ফলে এখন মানুষ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সেবা পাচ্ছেন। দুর্নীতি ও হয়রানি কমিয়ে সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবৃদুল গনি বলেন, “ডিজিটাল ভূমি সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ বিষয়ে ধারণা তৈরি করা প্রয়োজন।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয় কান্তি চাকমা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আমির হোসেন, ভূমি কানুনগো আবুল কালাম মাসুদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, ইউপি চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা ও আনন্দ জয় চাকমা, হেডম্যান ইখিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা।
আয়োজকরা জানান, ভূমি মেলার মাধ্যমে জনগণকে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করা এবং সরকারি সেবাকে আরও সহজলভ্য করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
মন্তব্য করুন