পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা অবহেলা ও তদারকিহীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সেবার নামে চলছে অব্যবস্থাপনা। এতে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দালালচক্রের সক্রিয়তা এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাব দীর্ঘদিন ধরে প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, মানসম্মত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল ছাড়াই চিকিৎসাসেবা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্লিনিকে রোগী ভর্তি করে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। আবার কোনো দুর্ঘটনা বা রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে দ্রুত বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গ্রামের সহজ-সরল ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন না। ফলে অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণও হয় না।
এ বিষয়ে গত ১৬ মে ২০২৬, শনিবার সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে মঠবাড়িয়ার স্বাস্থ্যখাতে চলমান বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন, প্রশাসনিক তৎপরতা কিংবা দৃশ্যমান পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিছু অসাধু ক্লিনিক মালিক, দালালচক্র ও দায়িত্বহীন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
মঠবাড়িয়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যান। সেখানে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসা নিয়েও অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়। অনেক সময় রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে দায় এড়াতে দ্রুত অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন অব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ ফিরে পাবে।
মন্তব্য করুন