কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এস. এস. আল হুসাইন সোহাগ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবরণ ও হামলার মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণেও এলাকায় তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
জানা যায়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন সোহাগ। ২০০৫ সালে ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি ভেড়ামারা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ভেড়ামারা পৌর ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলীয় কর্মসূচিগুলোতে তিনি ঢাকা, খুলনা ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। রাজনৈতিক জীবনে ২০১৪ সালে ৪৫ দিন, ২০১৯ সালে ১৫ দিন এবং ২০২৪ সালে ১০৭ দিনসহ মোট দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২২ সালে ভেড়ামারা উপজেলার মুক্তিযুদ্ধ স্তম্ভে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে কালিমা লেপনের ঘটনার প্রতিবাদে তিনি সরব ভূমিকা পালন করেন। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিকৃতিটি পরিষ্কার করার ঘটনায় তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা দাবি করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন সোহাগ। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্যসামগ্রী, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ করেন। রমজান মাসে দুস্থ মানুষের জন্য সেহরি বিতরণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন।
২০২৩ সালের ২ জুলাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তার ওপর একটি হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব প্রতিকূলতা তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পারেনি। গুরুতর আহত অবস্থায় এবং পরবর্তীতে হুইলচেয়ারে বসেও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় আসেন।
শিক্ষাগত জীবনেও তিনি সফল। সোহাগ ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিবিএ) ও স্নাতকোত্তর (এমবিএ) সম্পন্ন করেছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এলাকাবাসীর মতে, ত্যাগ, সংগ্রাম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এস. এস. আল হুসাইন সোহাগ ভেড়ামারার রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন। তার সমর্থকদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতেও তিনি জনগণের কল্যাণে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
মন্তব্য করুন